কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা জানা থাকলে দৈনন্দিন জীবনযাপন সুন্দর ও
আপনার স্বাস্থ্য সুস্বাস্থ্যে পরিণত হবে। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে কিসমিস
ভেজানো পানি পান করলে কষ্টকাঠিন্য দূর হবে। রক্তস্বল্পতা সহ লিভারের
বিষাক্ত পদার্থ দূর হয়।
তবে নিয়ম মেনে না খেলে, ব্লাড সুগার ওজন মানে বেড়ে যেতে পারে। সুস্বাস্থ্য বজায়
রাখতে প্রতিদিন কয়টি করে, কিভাবে খেলে উপকার আসবে,
কাদের জন্য সতর্ক থাকা জরুরি, কতটুকু পরিমান খাওয়া জরুরী, এই সকল প্রশ্নের
উত্তর এই আর্টিকেলের মাধ্যমে পাবো।
সূচিপত্র:কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
- কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
- ভেজানো কিসমিসের অনেক গুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা
- খালি পেটে কিসমিস পানির জাদুকরী স্বাস্থ্যগুণ
- কোষ্ঠকাঠিন্য নিমিষেই দূর করার আসল ঘরোয়া উপায়
- রক্ত স্বল্পতা ও ক্লান্তি দুর করার সহজ সমাধান
- লিভারে ক্ষতিকর বর্জ্য পরিষ্কারের ঘরোয়া নিয়ম
- অতিরিক্ত কিসমিস খাওয়ার যে সকল মারাত্মক ঝুঁকি
- ডায়াবেটিস ওজন বাড়ার ভয় এড়ানোর কৌশল
- হাড় ও পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখার টিপস
- কিসমিস খাওয়ার সঠিক নিয়ম ও সময়
- লেখক এর চূড়ান্ত মতামত :কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা জানা জরুরী
আমরা অনেকেই নিজের সুস্বাস্থ্য বা ক্যালোরি বৃদ্ধির জন্য, পুষ্টি উপাদান সঠিকভাবে
পাওয়ার জন্য অনেক ধরনের ড্রাই ফুড চেয়ে থাকি।তবে শুকনো কিসমিসের চেয়ে পানিতে
ভিজিয়ে রাখা কিসমিস আমাদের শরীরের জন্য অনেক বেশি উপকারী। আমি আপনি যদি রাত্রে
এক গ্লাস পানিতে কিসমিস ভেজিয়ে রেখে, সকালে কিসমিস ভেজানো পানি পান করি
এবং কিসমিস গুলো চিবিয়ে খাই তাহলে পরিপাক ক্রিয়া ও হজম শক্তি বৃদ্ধি পাবে।
দীর্ঘদিনের কষ্টকাঠিন্য লিভারের বিষক্রিয়া দ্রুত সমাধান হয় এবং শরীর সতেজ হয়ে
ওঠে। তবে ভেজানো কিসমিসের খাওয়ার যেটা সেটা আমাদের রক্তে খুব বেশি প্রভাব
বিস্তার করে। তা কিন্তু আমাদের অনেকেরই প্রায়ই অজানা, সেটা তো আমাদের জানা জরুরি
চলুন দেখি কিভাবে রক্তের ওপর প্রভাব বিস্তার করে।
আমরা বিজ্ঞান বিভাগের পাঠ্য পুস্তকে বা বই এ পড়েছি যে, আয়রন কপার ও
ভিটামিন বি কমপ্লেক্স আমাদের রক্তে লোহিত রক্তকণিকা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। আর
আমরা যদি প্রতিদিন সকালে নিয়ম মেনে কিসমিস ভেজানো পানি সহ কিসমিস চিবিয়ে খাই
তাহলে আমাদের শরীরে,
- আইরন,কপার ও ভিটামিন বি কমপ্লেক্স তৈরি হয়।
- যা আমাদের শরীরে রোহিত রক্তকণিকা গঠন করে।
যারা রক্ত সল্পতা, দুর্বলতা ও মানসিকভাবে ডিপ্রেস হয়ে যায় তাদের শরীরে রক্ত
বৃদ্ধি লোহিত রক্ত কণিকা এটা উৎপন্ন হওয়া খুবই জরুরী। কিসমিস ভেজানো পানি সকালে
খালি পেটে খেলে এটা,
- প্রাকৃতিক রক্ত কণিকা উৎপন্ন হওয়ার ঔষধ হিসেবে কাজ করে।
- রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
- হাড় মজবুত করতে ভেজানো কিসমিস সাহায্য করে।
তাই প্রতিদিন আমরা এই স্বাস্থ্যকর অভ্যাসটি গড়ে তুলতে যেয়ে যদি ভুল
বা অতিরিক্ত কিছু করি তাহলে উপকারের বদলে অপকার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তাই নিচের বিষয়গুলোর ওপর সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরী।
আমরা সকলেই বুঝি কোন কিছুই অতিরিক্ত বা নিয়মের বাইরে ব্যবহার করার ফলে আমাদের
কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অন্যান্য খাবারের মতো কিসমিস
ভেজানো পানি বা কিসমিস নিয়মের বাইরে বা অতিরিক্ত খেলে কিছু পার্শ্ব
প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
- শরীরে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।
- হঠাৎ অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি পেতে পারে।
- পেট ফাঁপা বা হজমে গন্ডগোল হতে পারে।
তাই এই সকল অপকারিতা এ সকল সমস্যা থেকে বেঁচে থাকতে সুস্থ মানুষের দিনে
কতটা কিসমিস খাওয়া সেটা জেনে রাখা আমাদের প্রয়োজনীয়।
একজন সুস্থ সবল ব্যক্তির ৮ থেকে ১২ টি ভেজানো কিসমিস ও পানি খাওয়া যেতে
পারে। আমাদের যাদের ডায়াবেটিসের সমস্যা আছে তাদের খাওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের
পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কিসমিস ভেজানো পানি বা কিসমিস খেলে রক্তে
শর্করার মাত্রা বাড়তে পারে। রাতে 8 থেকে 12 টি কিসমিস ভালো করে ধুয়ে, পরিষ্কার
পানিতে ভিজিয়ে রেখে, সকালে উঠে খালি পেটে কিসমিস চিবিয়ে খাওয়া ও সম্পূর্ণ
পানিটি পান করা পুষ্টিকর উপাদান পাওয়ার এটাই নিয়ম।
ভেজানো কিসমিসের অনেক গুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা
আমরা অনেকেই সকালে ঘুম থেকে উঠে বিভিন্ন রকম খাবার খায়। যেমন: চা, কফি, রুটি,
পাউরুটি, ডিম মামলেট এসবের বদলে যদি আমরা এক কাপ কিসমিস ভেজানো পানি কিসমিস
চিবিয়ে খাই থেকে দ্বিগুণ উপকার ফিরে আসবে। রাতে পরিষ্কার একটা কাপে নিয়ে 8 থেকে
12 টি কিসমিস ভালো করে ধুয়ে ভিজিয়ে রাখি তাহলে সারারাত কিসমিস থেকে পুষ্টিকর
উপাদান পানিতে মিশে এক ধরনের উপকারী মিশ্রণ তৈরি করে।সকালে উঠে যদি আমরা খালি
পেটে প্রাকৃতিক মিশ্রিত পানিটি পান করি এবং কিসমিস কে চিবিয়ে খাই,
তাহলে পেটের মধ্যে যে সকল ক্রিয়া বিক্রিয়া সম্পন্ন হয় এটা কার্যকারিতা
বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। পরিপাকতন্ত্র পরিষ্কার করা ও এর কার্যকারিতা বৃদ্ধি করার
পাশাপাশি এই পানিটি আমাদের শরীরের রক্ত নালির মধ্যে বা রক্ত নালির জন্য যে
কতটা উপকারী সেটা জানলে আসলেই অবাক হবে।
আমরা অনেকেই জানি যে সকালে কিসমিস ভিজিয়ে খাওয়ার উপকারীতা কি, লোহিত রক্ত কনিকা
উৎপন্ন করার সাথে সাথে এর পুষ্টি গুন রক্তের সাথে মিশে সারাদিনের ক্লান্তি ভাব
নিমিষেই দূর করে সতেজতা ফিরিয়ে আনে। চেহারায় ফেকাসে ভাব দুর করে সৌন্দর্য ফিরিয়ে
আনে। আমরা যারা বয়স্ক আছি তার্ জানি যে বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমাদের হাগের ক্ষয়
হয়, তাহলে আমরা এটাও জেনে নিই যে নিয়মিত সকালে কিসমিস ভেজানো পানি সহ, কিসমিস
খেলে আমাদের এই হাড়ের ক্ষয় রোড ও হাড়ের ক্ষতি পূরণ হয়। তাই এটার সঠিক ব্যবহার
জানা আমাদের সকলের জন্য প্রয়োজনীয়। তা না হলে অনিয়ম করে খাওয়ার কারনে আমাদের
উপকারী হওয়া থেকে অপকার এর সম্ভাবনা বেশি থাকে।
আমরা অনেকে অধর্য হয়ে যাই আমরা আস্তে আস্তে ফলাফল না পেয়ে ফলাফল খুব দ্রুত পেতে
চাই তাই নিয়ম মেনে অল্প অল্প করে না গ্রহণ করে একবারে খুব বেশি পরিমাণে গ্রহণ
করার ইচ্ছা থাকে। এমন করলে আমাদের শরীরে বিপরীতে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে।
যেমন: পেটে গ্যাস বা শরীরে শর্করা বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি। রাতে কিসমিস ভিজিয়ে রেখে
সকালে খালি পেটে খাওয়ার অভ্যাস ৭ দিন মেনে দেখুন, আপনার শরীরে পরিবর্তন আসবে,
অল্পতে ক্লান্তি ভাব দুর হবে, আপনি সতেজ, প্রফুল্ল জীবন উপভোগ করবেন।
খালি পেটে কিসমিস পানির জাদুকরী স্বাস্থ্যগুণ
যদি এমন হয় যে সকালে এক গ্লাস পানি আমাদের সারাদিনের ক্লান্তি থেকে মুক্তি দেই,
শরীরের সতেজতা রাখতে সাহায্য করে করে তাহলে তো আমরা এমন জাদুকরী পানিই সবাই খেতে
চাই তাইনা? বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলাফল স্টাডি করে আমরা অনেকেই জেনেছি যে কিসমিসে
দুইটা উপকারী উপাদান থাকে। একটা হলো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অন্যটি হলো
ফ্লাভোনয়েড। এই দুইটাই শরিরে শক্তি বৃদ্ধি বা এনার্জি বৃদ্ধিতে কাজ করে। এটা
সক্রিয় হতে কিছু সময় এর সাথে পানির প্রয়োজন হয়। তাই আমরা যখন রাতে কিসমিস পানিতে
ভিজিয়ে রাখি তখন সারারাত ভিজিয়ে রাখার কারনে কিসমিসের এই দুইটা উপানার সক্রিয় হয়ে
পানির সাথে ভালো করে মিশে যাই। পরবর্তীতে যখন আমরা পানি পান করি তখন এটা আমাদের
শরীরের তাৎক্ষণিক শক্তির যোগান দেই এবং সারাদিনের ক্লান্তি ভাব নষ্ট করে। কিসমিস
ভেজানো পানির উপকারিতা যে আমাদের মুখ, ত্বক সহ শরীরের সতেজতা উজ্জ্বলতা বাড়াতে
কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা জানলে আপনি এখনি এটা খাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করবেন।
ত্বকের সতেজতা কিভাবে পরিবর্তন করে কি কি পরিবর্তন হয় আমরা একটু সহজ লিস্ট মতো করে দেখি। যেমন:
- ত্বকের নিচে নতুন ত্বক গঠনে সাহায্য করে।
- নতুন ত্বক সৃষ্টি হওয়ার অকাল বার্ধক্য ছাপ পরা থেকে রক্ষা করে
- চেহারা ফ্যাকাসে ভাব দুর করে।
- সতেজতা ফিরিয়ে আনে, ক্ষুদা মিটাই।
সকালের ভেজানো কিসমিসে এবং পানিতে পটাসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে।এটার কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব আমাদের শরীরে উপকারে আসে। যেমন:
- রক্তের এসিডিটি কমায়।
- হটাৎ মাথা ব্যাথা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
- এলার্জি জনিত সমস্যা সমাধান হয়।
- দীর্ঘদিনের ক্লান্তি, অশান্তি ভাব থেকে মুক্তি পাওয়া যায়
- মানসিক ভাবে সুস্থ থাকা যায়
তাই এসব সুফল পেতে হলে প্রতিদিন নিয়ম মেনে কিসমিস ভেজানো পানি বা সকালে খালি পেটে
ভেজানো কিসমিস সহ পানি খেতে হবে।
আরো পড়ুন:চাকরির জন্য সিভি লেখার নিয়ম বাংলায়
বিভিন্ন অভিজ্ঞ ব্যক্তি নিয়মিত ভেজানো কিসমিস খেয়ে দেখেছেন এবং বিজ্ঞানীরা
গবেষণা করে দেখেছেন, কোন ব্যক্তি যদি নিয়মিত এবং কিসমিস ভেজানো পানি এবং কিসমিস
চিবিয়ে খায় এবং এটা তিন থেকে চার সপ্তাহ নিয়মিত মেনে চলে তাহলে তার শরীরকে
সতেজ রাখতে ও সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে, সুস্বাস্থ্য ধরে রাখতে, সুস্বাস্থ্য তৈরি
করতে তাকে কোন মেডিসিন বা সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। এটা নিয়মিত
খাওয়ার ফলে ধীরে ধীরে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি সিস্টেমকে
আরো মজবুত ও দৃঢ় করে তোলে।তাই কৃত্রিম সাপ্লিমেন্টও ওষুধ নির্ভর জীবনযাপন থেকে
মুক্তি পেতে নিয়মিত সকালে কিসমিস ভেজানো পানি খাওয়ার অভ্যাস আজ থেকেই
গড়েকোষ্ঠকাঠিন্য
কোষ্ঠকাঠিন্য নিমিষেই দূর করার আসল ঘরোয়া উপায়
আমাদের নিত্যদিনের সমস্যা সকালে ঘুম থেকে উঠেই ক্লান্তি অনুভব করা। অনেকেরই
আবার পেটের অস্বস্তি নিত্যদিনের একটা সমস্যা তৈরি হয়ে গেছে। বিভিন্ন
রকম মেডিসিন খাওয়ার পরও আমাদের ক্লান্তি ও অস্বস্তি চিরতরে ঠিক হয় না সাময়িক
জন্য আমরা শান্তি অনুভব করি আবার একই সমস্যা হয়। তারা সহ আমাদের সকলের
জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়ে আমরা জানবো। রাতে পরিষ্কার পানিতে ৮ থেকে ১২ টি
কিসমিস ভিজিয়ে রেখে সেটা সকালে খালি পেটে খেলে পেটের মধ্যে একটা পরিবর্তন আসে।
কোষ্ঠকাঠিন্যে কিসমিসের ভূমিকা অতুলনীয়। কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
একজন মানুষের সম্পূর্ণ জানা খুবই প্রয়োজনীয় কারণ অনিয়মিত বা ভুল নিয়মে এটি
গ্রহণ করলে বিপরীত ক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে।
যেসব প্রাকৃতিক উপাদান আমাদের কে সতেজ ও মজবুত কার্যকরী গড়ে তোলে সেগুলো হলো :
- দ্রবণীয় ফাইবার: পেটের মধ্যে বর্জ্য পদার্থ নরম করে কোষ্ঠকাঠিন্য সমাধান করে।
- প্রাকৃতিক আয়রন ও কপার :শরীরের মধ্যে আইরন ও কপার তৈরি করে যা রক্তকণিকা তৈরি করতে সাহায্য করে
- উচ্চ পটাশিয়াম : ধমনীর চাপ কমিয়ে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে।
তাই কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে নিয়মিত এটা খাওয়া জরুরী। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে 8
থেকে 12 টি ভেজানো কিসমিস চিবিয়ে খাব এবং পানিটাও সম্পূর্ণ পান করব। এতে
পাকস্থলীর দেয়াল সুদৃঢ় করবে,পরিপাকতন্ত্রকে সতেজ করবে,শরীরের অভ্যন্তরের
বিষক্রিয়া দূর করবে,বর্জ্য পদার্থকে নরম করে সহজে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করবে। যার
ফলে আমাদের কোষ্ঠকাঠিন্যর সমস্যা চিরতরে বিলীন হয়ে যাবে।
রক্ত স্বল্পতা ও ক্লান্তি দুর করার সহজ সমাধান
আমরা অনেকেই প্রতিদিন বিভিন্ন কাজে বা অকারনেই অনেক ক্লান্তি অনুভব করি। আবার
অনেকেরই তো রক্ত স্বল্পতা জনিত কারন আছেই যার ফলে দুর্বলতা সৃষ্টি হয়। মেডিসিন
নিয়ে সাময়িক সমাধান হলেও স্থায়ী সমাধান পাই না। কিসমিস খাওয়ার উপকারিতাই তো এই
সমস্যা সমাধানের একমাত্র চাবিকাঠি। রাতে পরিষ্কার পানিতে কিসমিস ভিজিয়ে রাখলে এর
মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক আয়রন ও ফলিক এসিড এর সক্রিয়তা বৃদ্ধি পাই। যার আমরা যখন
এটা খাই তখন আমাদের শরীরে গিয়ে রক্তকণিক উৎপন্ন শুরু করে আমাদের রক্তের স্বল্পতা
দুর করে। এই নিয়মিত অভ্যাসটি রক্তে অক্সিজেন এর মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, কোষগুলোতে
অক্সিজেন সরবরাহ বেড়ে যায়, যখন তখন মাথা ঘোড়ানো আর হাত পা অবাস মতো সমস্যা সমাধান
হয়। পেশির দুর্বলতা কমিয়ে পেশিকে মজবুত করে। এসব সমস্যা সমাধান করে নতুন এক
প্রাণশক্তি সঞ্চয় করে, তা শুনলে অবাক হবে!
আমরা বিজ্ঞান বই থেকে জানতে পেরেছি যে কিসমিসে আরো দুইটি অ্যামাইনো এসিড ও এনজাইম
থাকে। আমরা যখন কিসমিস ভেজানো পানি এবং কিসমিস গ্রহণ করি তখন এই দুইটা জিনিস
আমাদের শরীরে প্রবেশ করে খাদ্যের ক্যালোরিকে দ্রুত শক্তিতে রূপান্তর করে। যার ফলে
সারা দিনের ক্লান্তি ও দুর্বলতা এক নিমিষেই দূর হয়ে যায়। যার ফলে সারা দিনের
কর্ম ক্ষমতা বজায় থাকে, যার ফলে কাজের মধ্যে হঠাৎ শক্তি ফুরিয়ে যাওয়া বা
দুর্বলতা অনুভব করার সমস্যা সমাধান হয়। চিকিৎসকদের মতে, শরীরের যখন
হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বেড়ে যায় শরীরের বা ত্বকের ফ্যাকাসে ভাব দূর হয়ে
উজ্জ্বলতা ফিরে আসে।
ঘরোয়া সমাধানটি নিয়মিত অনুসরণ করলে, আমাদের শরীরে একটি স্থায়ী পরিবর্তন
আসবে।প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ৮ থেকে ১২ ভেজানো কিসমিস, পানি সহ খাওয়ার অভ্যাস
গড়ে তুলতে হবে। অতিরিক্ত না খেয়ে নির্দিষ্ট পরিমাপ বজায় রাখলে রক্তচাপ ও
অতিরিক্ত ওজন বাড়ার ঝুঁকি ছাড়াই প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান আমাদের শরীর
পাবে।ধৈর্য ধারণ করে নিয়মিত কয়েক সপ্তাহ খাওয়ার এই নিয়মটি মেনে চলতে পারলে,
আপনার শরীরের কাঙ্খিত পরিবর্তন লক্ষ্য করবেন।
লিভারে ক্ষতিকর বর্জ্য পরিষ্কারের ঘরোয়া নিয়ম
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় আমরা সবাই জানি যে, আমাদের শরীরের বর্জ্য পদার্থের
ফিল্টার হিসেবে একটা গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কাজ করে। সেটার নাম হল লিভার। প্রতিনিয়ত
অনিয়মিত ভেজাল যুক্ত খাবার, চারিপাশের দূষণযুক্ত পরিবেশের কারণে আমাদের
শরীরের ভেতরের লিভার ফিল্টার করতে করতে একসময় বিশাল ভারী হয়ে পড়ে। এই সমস্যা
সমাধানের জন্য রাতে পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে রাখা কিসমিস সকালে পানিসহ খেলে
লিভারের বায়োকেমিক্যাল ডিটক্সিফিকেশন প্রক্রিয়ার কার্যকরী ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
ধৈর্য দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে। জীববিজ্ঞান বই থেকে আমরা জানতে পারি,
কিসমিস ভেজানো পানি সব কিসমিস খেলে বায়ো অ্যাভিলিবিলিটি বা পোস্টটি শোষণের
ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে যা লিভারের এনজাইমের স্বাভাবিক ক্ষরণ ধরে রাখতে সাহায্য করে।
তাই সকল কিছু জানার পাশাপাশি কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কিত সঠিক
জানা ও জ্ঞান থাকা কারণে পূর্ণাঙ্গ সুফল পাওয়া সম্ভব।
বৈজ্ঞানিক ভাষায় কিসমিসে থাকা সুনির্দিষ্ট বায়ো-অ্যাটিভ পলিফেনাল এবং ক্যাটেচিন জাতীয় ফ্ল্যাভোনয়েড সরাসরি আমাদের লিভারের কাজে লাগে।যেমন:
- লিভারের প্রাথমিক ঝুঁকি কমায়
- পিত্ররস বা বাইল ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ
এর মত গুরুত্বপূর্ণ কাজে ভূমিকা পালন করে। সঠিক পিত্তরস বা বাইল কারণে
লিভারের কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালিত হয়। যার কারণে লিভারের চর্বি জমা বন্ধ হয়।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের সরাসরি প্রমাণ পাওয়া যায় যে,কিসমিসের এই মিশ্রণটি পান করলে
রক্ত থেকে বিষাক্ত ভাড়ি ধাতু ছেঁকে ফেলে লিভারের টিস্যু ক্ষয় হওয়া রোধ
করে। শরীরের এই প্রক্রিয়াটি বজায় রাখতে নিয়মিত কিসমিস ভেজানো পানি খাওয়ার
সাথে সাথে এ যাতে অতিরিক্ত শর্করার চাপ না পড়ে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
সুস্বাস্থ্য ও সুস্থ সবল এবং সতেজ শরীর ধরে রাখতে বা গঠন করতে হলে অর্গানিক বা
খাঁটি কিসমিস পরিষ্কার পানিতে কাচের গ্লাসে ভিজিয়ে রাখতে হবে। সেটা সকালে খালি
পেটে পানিসহ পান করতে হবে। আমরা কিসমিসের সঠিক উপাদান বা গুনাগুন পেতে চাইলে
প্লাস্টিকের গ্লাস এড়িয়ে চলব। কারণ প্লাস্টিকের গ্লাসের ভিজিয়ে রাখলে।
কিসমিসের যে পুষ্টি উপাদান বা এন্টিঅক্সিডেন্ট সেটা প্লাস্টিকের সাথে বিক্রিয়া
করে উপকারিতা থেকে বিপরীত কার্যক্রম হতে পারে। তাই সঠিক উপকারিতা পেতে হলে
প্লাস্টিকের গ্লাসের পরিবর্তে কাচের গ্লাসে আমরা ভিজিয়ে রাখার চেষ্টা করব। তাহলে
কোন রাসায়নিক বিক্রিয়া ছাড়াই সকল পুষ্টি উপাদান পানিতে সংরক্ষিত থাকে। সেই পানি
পান করার পরে লিভার টা সঠিকভাবে শোষণ করে। শতভাগ পুষ্টি উপাদান লিভার পেয়ে গেলে
লিভার সুস্থ থাকে এবং সঠিক কার্যকারিতা বজায় রাখে।এতে করে লিভারের বর্জন
নিষ্কাশন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং ভালো থাকে। লিভারের কার্যক্রমটা ভালো থাকার
কারণে মুখের অরুচি ভাবো দূর হয়। তাই একটা না তিন থেকে চার সপ্তাহ এই খাদ্য
অভ্যাসটা বজায় রাখতে হবে।
আরো পড়ুন:চাকরির জন্য সিভি লেখার নিয়ম বাংলায়
যেকোনো শক্তিশালী ডায়েটের এর ক্ষেত্রে সঠিক অনুপাতে খাওয়া-দাওয়া পুষ্টিমান বজায়
না থাকলে লিভার অতিরিক্ত গ্লুকোজ প্রসেস করতে গিয়ে সাময়িকভাবে দুর্বল হয়ে
পড়ে। তাই লিভারের ক্ষমতা বজায় রাখতে প্রতিদিন ৮ থেকে ১২টি কিসমিস পানিতে
ভিজিয়ে সকালে খালি পেটে গ্রহণ করলে উপকার আসবে। কিন্তু উপকারের আশায় ৮ থেকে
১২টির অতিরিক্ত কিসমিস খেলে বিপরীত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। তাই লিভারকে
সুরক্ষিত ও কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে নিয়ম মেনে খাওয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। আপনার
লিভার কে সুস্থ রাখতে এখনই পরিমিত নিয়ম মেনে ভেজানো কিসমিস খাওয়া শুরু
করুন।
অতিরিক্ত কিসমিস খাওয়ার যে সকল মারাত্মক ঝুঁকি
সকলে আমি সুস্বাস্থ্যের জন্য বেশ আগ্রহী এবং স্বাস্থ্য ভালো করতে আমরা বেশ
যত্নশীল দায়িত্ব পালন করি। তাই আমরা সকালে কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা জেনেই আমরা এটা
খাওয়া শুরু করি। কারন আমরা সু স্বাস্থ্য চাই। তাই আমরা সুস্বাস্থ্যের লোভে
নিয়মের বাইরে অতিরিক্ত খেয়ে ফেললে উপকারের বদলে অপকারই বেশি হবে। আমরা আমাদের
স্কুল জীবনে অথবা কলেজ জীবনের জীববিজ্ঞান বই থেকে পড়েছি যে কিসমিসে প্রচুর
পরিমাণে ফ্রুক্টোজ বা শর্করা ঘনীভূত অবস্থায় থাকে।তাই এটা যদি আমরা
প্রয়োজনের অতিরিক্ত গ্রহণ করি। তাহলে আমাদের শরীরের বিপাকিয় কার্যক্রম খুব দ্রুত
সময়ের মধ্যে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এই লোভনীয় ও উপকারী খাবারটি যদি আমরা
প্রয়োজনের অতিরিক্ত আমাদের শরীরের গ্রহণ করি তাহলে নিম্নলিখিত সমস্যাগুলো আমাদের
শরীরে দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি। যেমন :
- রক্তে শর্করার মাত্রা বা ব্লাড সুগার খুব দ্রুত অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে: অতিরিক্ত পরিমাণে কিসমিস খেলে গ্লুকোজ হঠাৎ করে অতিরিক্ত বেড়ে যায়, যেটা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য প্রাণ নাশক হতে পারে।
- অনিয়ন্ত্রিত শরীরের ওজন বৃদ্ধি :কিসমিসে উচ্চমাত্রায় শর্করা ও ক্যালোরি থাকে। যা অতিরিক্ত খাওয়ার কারণে শরীরের চর্বি বা মেদ জমা হয়। যা শরীরে ওজন বাড়িয়ে দেই।
- পেট ফাঁপা,গ্যাস ও হজমে সমস্যা :অতিরিক্ত কিসমিস খাওয়ার ফলে অতিরিক্ত ফাইবার শরীরের প্রবেশ করে।যার ফলে পেট ফাঁপা সহ কোষ্ঠকাঠিন্য তীব্র গ্যাস ইত্যাদি সমস্যা হয়।
- লিভার ও পরিপাকতন্ত্রের উপর অতিরিক্ত চাপ:অতিরিক্ত শর্করা ও ফ্রুুক্টোজ প্রসেস করতে যেয়ে লিভার অগ্নাশয় বেশি ক্লান্ত হয়ে পড়ে,যেটা ফ্যাটি লিভারের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
- ত্বকে এলার্জি বা চুলকানি :অনেক বেশি কিসমিস খাওয়ার ফলে ত্বকে বা চুলকানি অঙ্কে দেখা দিতে পারে।তাই সুস্বাস্থ্যের লোভে অতিরিক্ত কিছু সেবন করা থেকে বিরত থাকতে হবে।নিয়মবঙ্গ না করে নিয়মের ভিতরের থেকেই সবকিছু খেতে হবে।
ডায়াবেটিস ওজন বাড়ার ভয় এড়ানোর কৌশল
আমরা অনেকেই কিসমিস খাই এবং এটার স্বাদ জানি। এটা কি রকম স্বাদ মিষ্টি স্বাদ
তাইনা। তাই আমাদের যাদের ডায়াবেটিস আছে বা ওজন বাড়ার ভয় আছে। আমরা সকলে ভাবি
তাহলে যদি আমরা এই মিষ্টি জিনিস তাকে খাই। তবে হয়তো ডায়াবেটিস ওজন বাড়ার
সমস্যা হতে পারে। পুষ্টিবীদদের মতে, কিসমিস কে সঠিক উপায়ে প্রসেস করে খেলে
ডায়াবেটিস ওজন বাড়ার ভয় এড়ানো সম্ভব। সঠিকভাবে প্রসেস করে খেলে ডায়াবেটিস
ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি এড়িয়ে কিসমিসের সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করা সম্ভব। শুকনা
কিসমিসে সুগার ঘনীভূত অবস্থায় থাকে সেটা সেটা ভেজানো হলে এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স
কমে যায়। ফলে কিসমিস ভেজানো পানি শরীরে সুগারের মাত্রা বাড়ানোর চেয়ে শরীরে
ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে। তাই মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছে মেটাতে আমরা কিসমিস
ভেজানো পানি খাওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারি।
আমরা আরো কিছু টেকনিক অবলম্বন করতে পারি। ধরুন আমরা যদি কিছু মিস খাই খাওয়ার ফলে
আমাদের শরীরে শর্করাটা যাবে বা জমা হবে। ওই শর্করা যদি কিছু দিয়ে রিপ্লেস করা
যায় তাহলে তো আমাদের কিসমিস খেলেও কোন সমস্যা নাই। হ্যাঁ এমন একটা উপায় আমার
জানা আছে। আমরা সকালে উঠে কিসমিস খাওয়ার পর বা কিসমিস খাওয়ার সময়, শুধু কিসমিস
না খেয়ে তার সাথে আমরা আরেকটা জিনিস যোগ করতে পারি, সেটা কি জানেন? সেটা হল
কাঠবাদাম বা আখরোট। এটা খেলে শরীরে বা পাকস্থলীতে শর্করা শোষণের হার অনেকটা
কমিয়ে দেয়।তাহলে শরীরে হঠাৎ করে শর্করা মাত্রা বেড়ে যাওয়া থেকে
রেহাই পায়। যা টাইপ-২ ডাইবেটিস রোগীদের জন্য অনেকটা কার্যকরী বা নিরাপদ ভূমিকা
পালন করে।ভেজানো কিসমিসের ফাইবার দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে, ফলে বাইরের
অস্বাস্থ্যকর খাওয়া থেকে বিরত রাখে, বাইরের এই অস্বাস্থ্যকর অতিরিক্ত খাবার
খাওয়া থেকে বিরত থাকলে, শরীরের অতিরিক্ত ওজন কন্ট্রোলে নিয়ে আসা সম্ভব হয়। তবে
এই সহজ ব্যবস্থাটি কার্যকর রাখতে খাওয়ার সময় এর ব্যবধান জানতে হবে।
এখন আমরা দ্বিতীয় কৌশলটি শিখতে পারি,আমরা তাহলে কখন খাব সেটা দেখি, সকালে খালি
পেটে খাব সকালে খালি পেটে খেলে সেটা সরাসরি শক্তিতে রূপান্তর হয়ে যায় শরীরে জমা
থাকে না। আবার আমরা যদি সকালে দৌড়ায় বা হাটতে চাই তাহলে, হাটার 15 মিনিট
বা 20 মিনিট আগে খাব। তাহলে সেটাও জমানো না থেকে ক্যালোরিতে পরিবর্তন হয়ে
যাবে। শরীরে চর্বি হিসেবে জমারো সুযোগ পাই না। তবে আমার জানামতে,
চিকিৎসকেরা পরামর্শ দিয়ে থাকেন, কোন ডায়াবেটিস রোগী যদি দিনে চার থেকে পাঁচটি
কিসমিস খাই, তাহলে তার শরীরে তেমন বেশি পরিবর্তন আসে না, সে ব্লাড সুগার পরিমাপ
করে দেখতে পারবে তার রক্তে গ্লুকোজের মাত্র ঠিক আছে। আপনি যদি মিষ্টি খাওয়ার লোভ
সামলাতে না পারেন ডাবল ট্রিক্স ফলো করতে পারেন।
তবে আমরা যে কয়টি ট্রিক্স বা যে টেকনিকেই অবলম্বন করি না কেন, আমাদের মনে রাখতে
হবে শরীরের শর্করার মাত্রা ওজনের ভারসাম্য বজায় রাখতে, আমাদের প্রতিদিন পর্যাপ্ত
পরিমাণ পানি পান করতে হবে। নিয়মিত ব্যায়ামের অনুশীলন করতে হবে। শারীরিক পরিশ্রম
করতে হবে। কিসমিস ভেজানো কাচের গ্লাসটি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। অতিরিক্ত
কেমিকাল যুক্ত খাবার, ড্রাই ফুড এগুলো বাদ দিয়ে কিসমিস ভেজানো পানি
পান করতে হবে।তবে আমি বলব ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী
তাদের ডায়েট চার্টের এই খাবারটি এড করে নেয়া সব থেকে বেশি নিরাপদ।
হাড় ও পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখার টিপস
বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমাদের কিছু শারীরিক পরিবর্তন হয়। যেমন হাড়ের ক্ষয় হয়,
বদহজমে বা হজমের সমস্যা হয়। তবে জানলে অবাক হবেন যে, সকল সমস্যার সমাধান লুকিয়ে
আছে, শুধুমাত্র একগ্লাস কিসমিস ভেজানো পানিতে। কিমমিসে থাকা বিভিন্ন দ্রবণীয়
ফাইবার,বোরন ও ক্যালসিয়াম পানিতে ভিজিয়ে রাখলে অনেক বেশি কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি
পায়। প্রতিদিন সকালে নিয়ম করে কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা মেনে এটি
গ্রহণ করলে শরীরে দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন আসে। ভেতর থেকে হাড়কে মজবুত করে।
কিসমিসে থাকা বিশেষ মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট বোরন যার শরীরে ম্যাগনেসিয়াম ও
ক্যালসিয়ামের শোষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, ফলে শরীরে হারের ক্ষয়রোধ হয়। নিয়মিত এই
কিসমিস ভেজানো পানি গ্রহণ করলে শরীরের মধ্যে একটা উপকারী ব্যাকটেরিয়ার উৎপন্ন
হয় যেটা হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে, বর্জ্য পদার্থকে নরম করে ফলে
কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে চিরস্থায়ী একটা সমাধান আসে। তাই কিসমিস খাওয়ার
উপকারিতা ও অপকারিতা মেনে চললে কৃত্রিম কোন মেডিসিন বা সাপ্লিমেন্ট ছাড়াই
দীর্ঘস্থায়ীভাবে সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা যায়।
কিসমিস খাওয়ার সঠিক নিয়ম ও সময়
কিসমিস খাওয়ার সকল পুষ্টি ও সকল গুনাগুন নিজের মধ্যে টেনে নেওয়ার সঠিক কৌশল
লুকিয়ে আছে, এটা নিয়ম মেনে খাওয়া ও সময়ের ওপর। ভুল নিয়মে বা ভুল পাত্রে ও
ভুল সময়ে খেলে উপকারের বদলে অপকার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। রাতে পরিষ্কার কাচের
গ্লাস পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে, ৮ থেকে ১২ টি অথেন্টিক কিসমিস বিশুদ্ধ পানি
দিয়ে ধুয়ে, সুন্দর পানি একটা গ্লাসে নিয়ে তার মধ্যে কিসমিস গুলো ভিজে রাখতে
হবে। রাতে ৬ থেকে ৭ ঘন্টা ঘুমের পর সকালে উঠে খালি পেটে কিসমিস ভেজানোর পানি খেতে
হবে ও ও ভেজানো কিসমিস গুলো ভালো করে চিবিয়ে খেতে হবে। তাই কিসমিস খাওয়ার
উপকারিতা অপকারিতা মেনে চললে এবং সেটা গ্রহণ করলে শরীরের সাথে কথা খুব দ্রুত ফিরে
আসে।
সময় নির্বাচনের জন্য দিনের সবচেয়ে সময় হলো সকাল বেলা, খালি পেটে মুখ ধুয়ে।
সকালে আমাদের পেট ফাঁকা থাকে, ফলে কিসমিস ও পানের ভেতরের আয়রন, এন্টিঅক্সিডেন্ট
এবং প্রাকৃতিক মিনারেল গুলো সরাসরি খুব দ্রুত রক্তের সাথে মিশে শরীরের পা থেকে
মাথা পর্যন্ত প্রত্যেকটা কোষে পৌছাই। তবে যারা সকালে হাঁটাহাঁটি করেন তারাও
হাঁটাহাঁটির ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগেও এটি খেতে পারেন। এদের শরীরে তাৎক্ষণিক এনার্জি
মিলে, সতেজোতে আসে হাঁটার বা দৌড়ানোর শক্তি মিলে। সঠিক নিয়ম মেনে না খেলে ভারী
খাবারের সাথে খেলে, পেটের হজমের গন্ডগোল হতে পারে। তাই সঠিক নিয়মে কিসমিস
খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা জানা প্রতিটি মানুষের জন্য অতীব জরুরী।
আরো পড়ুন:চাকরির জন্য সিভি লেখার নিয়ম বাংলায়
ভেজানো পানির সমাধান পেতে হলে, তিন থেকে চার সপ্তাহ নিয়ম মেনে অক্ষরে অক্ষরে
ধৈর্য ধারণ করে গ্রহণ করতে হবে। আমার মনে হয় সঠিক নিয়মে এগুলো খেলে চিকিৎসকের
পেছনে আমাদের হাজার হাজার টাকা খরচ করা বেঁচে যাবে। এই পানি পান করা ঠিক ১৫ থেকে
১০ মিনিটের মধ্যে স্বাভাবিক পানি খেলে তার শরীরের হাইড্রেশনের মাত্রা বাড়িয়ে
রক্তে পুষ্টিকরের চলাচলের একদম মসৃণ করে তোলে।
লেখক এর চূড়ান্ত মতামত :কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
আমি স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের সাথে থেকে ও বৈজ্ঞানিক তথ্য চিকিৎসকের কথা বিশ্লেষণ
করে বলতে পারি যে, ভেজানো কিসমিস কোন জাদুকরি অলৌকিক কিছু নয়।তবে হ্যাঁ সকল ঔষধ
বা কৃত্রিম সাপ্লিমেন্ট পাওয়া যায়।সেগুলো সবগুলো অনেক কিছু কিছু পার্শ্ব
প্রতিক্রিয়া আছে। কিন্তু সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া মুক্ত। তাই
আপনি যদি প্রতিদিন সকালে দশটি ভেজানো কিসমিস একটা কাচের পাত্রে পরিষ্কার
পানিতে হতে হবে যদি খেয়ে থাকেন, অবশ্যই সকল নিয়ম মেনে ধৈর্য ধারণ
করে তিন থেকে চার সপ্তাহ মেনে চলেন, তাহলে কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে, হাড় মজবুত
হবে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হবে, শরীর সতেজতা ফিরে আসবে, মুখমণ্ডল ও ত্বক
উজ্জ্বল হবে, ফ্যাটি লিভার থেকে মুক্তি পাবেন, এটা সম্পূর্ণই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
মুক্ত। তাই আমি আপনাকে এটা রিকমেন্ড করছি।
তবে অতিরিক্ত লোভে বা ভালোবাসার কারণে ভালোলাগার কারণে অতিরিক্ত খেলে তো
খেলে এর প্রাকৃতিক ফ্রুক্টোজ শরীরের শর্করা লেভেল বাড়িয়ে দিবে, পেটে গ্যাস
পাওয়া ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। যা আমি পুরো আর্টিকেলে খুব সুন্দরভাবে সতর্ক
করেছি। অবশ্যই ডায়াবেটিস রোগীদের চিকিৎসকের পরামর্শ মত ডায়েট চাটে এটা যুক্ত
করতে হবে। আমার জানামতে চার থেকে পাঁচটি যদি খান তাহলে কোন সমস্যা হওয়ার কথা না।
তাই কোন অলৌকিক উপায় এর ওপর ভরসা না করে নিয়ম মেনে পরিমাণ মতো পরিণত করুন। আশা
করছি ভালো ফলাফল পাবেন। আর্টিকেলটি পড়ে কেমন লাগলো অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।
ধন্যবাদ।




টপিকহাব ডিজিটালের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url