জন্ম নিবন্ধন আবেদন পত্র ডাউনলোড

জন্ম নিবন্ধন আবেদন পত্র ডাউনলোড করার নিয়ম এই আর্টিকেলে অনলাইনে নতুন আবেদন, PDF ফর্ম প্রিন্ট, জন্ম নিবন্ধনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, বয়সভিত্তিক আবেদন, ফরম পূরণ ও ডকুমেন্ট আপলোড , ফি, আবেদন জমা দেওয়ার স্থান, ভুল তথ্য সংশোধন প্রক্রিয়াও জানতে পারবেন।

জন্ম-নিবন্ধন-আবেদন-পত্র-ডাউনলোড

এই আর্টিকেলে সরকারি জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন তথ্য পদ্ধতি (BDRIS) ব্যবহার করে আবেদন করার ধাপগুলো সহজভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আবেদন জমা দেওয়ার আগে কী যাচাই করবেন এবং সাধারণ সমস্যায় কীভাবে সমাধান খুঁজবেন, তাও এখানে জানতে পারবেন।

সূচিপত্র: জন্ম নিবন্ধন আবেদন পত্র ডাউনলোড

জন্ম নিবন্ধন আবেদন পত্র ডাউনলোড

জন্ম নিবন্ধন আবেদন পত্র ডাউনলোড করতে চাইলে প্রথমে বাংলাদেশ সরকারের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। ওয়েবসাইটে নতুন জন্ম নিবন্ধনের আবেদন, তথ্য সংশোধন, আবেদনের বর্তমান অবস্থা যাচাই, সনদ পুনর্মুদ্রণ এবং আবেদনপত্র প্রিন্ট করার জন্য আলাদা অপশন রয়েছে। তাই কোন কাজের জন্য আবেদন করছেন, সেটি বুঝে সঠিক অপশন নির্বাচন করা জরুরি।

অফিসিয়াল ওয়েবসাইট: https://bdris.gov.bd

নতুন জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করতে সরাসরি এই লিংক ব্যবহার করতে পারেন:
https://bdris.gov.bd/br/application

আবেদনপত্র প্রিন্ট করতে অফিসিয়াল আবেদনপত্র প্রিন্ট পেজে প্রবেশ করুন:
https://bdris.gov.bd/application/print

আপনারা যারা অনলাইনে জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছেন, কিন্তু আবেদন করার পর আবেদনপত্রটি কীভাবে ডাউনলোড করবেন তা বুঝতে পারছেন না, তাদের জন্য আজকের এই ব্লগ। এখানে ধাপে ধাপে স্ক্রিনশটসহ দেখিয়ে দেব, কীভাবে আপনি অনলাইনে জন্ম নিবন্ধনের আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি ডাউনলোড করবেন।

আমরা অনেকেই অনলাইনে জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করি। কিন্তু আবেদন করার সময় সঠিকভাবে সব তথ্য পূরণ করেছি কি না, তা বুঝতে পারি না। কারণ, আমরা অনেকেই জানি না যে অনলাইনে আবেদন করার পর আবেদনপত্রটি প্রিন্ট করা যায়। আবার অনেকে বিষয়টি জানলেও আবেদনপত্র ডাউনলোড করতে গিয়ে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হই। ফলে আবেদনপত্র ডাউনলোড করা থেকে বিরত থাকি এবং আমাদের আবেদন সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা নিয়ে দ্বিধায় থাকি।

চলুন, তাহলে এই ব্লগে ধাপে ধাপে দেখে নেওয়া যাক, কীভাবে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধনের আবেদনপত্রটি ডাউনলোড করবেন। আপনি যদি এই ব্লগটি মনোযোগসহকারে সম্পূর্ণ পড়েন, তাহলে খুব সহজেই আপনার আবেদনপত্রটি ডাউনলোড করতে পারবেন। তাই কোনো অংশ বাদ না দিয়ে সম্পূর্ণ ব্লগটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

আপনারা অনেকেই জানেন, অনলাইনে জন্ম নিবন্ধনের আবেদন সফলভাবে সম্পন্ন করার পর একটি আবেদন নম্বর দেওয়া হয়। আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর ওয়েবসাইটের মাধ্যমে মোবাইল বা কম্পিউটারের স্ক্রিনে এই নম্বরটি দেখতে পারবেন। এ ছাড়া, আপনি যদি সচল মোবাইল নম্বর দিয়ে আবেদন করে থাকেন, তাহলে এসএমএসের মাধ্যমেও আবেদন নম্বরটি পেতে পারেন।

নিচের স্ক্রিনশটে দেখতে পাচ্ছেন, অনলাইনে আবেদন করার পর আমাকে একটি আবেদন নম্বর দেওয়া হয়েছে। আমি এখান থেকে নম্বরটি সংগ্রহ করছি। আপনারা যারা আবেদন করার পর ওয়েবসাইট থেকে আবেদন নম্বরটি সংগ্রহ করতে ভুলে গেছেন, তারা মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে এসএমএসটি চেক করবেন। সেখানে আপনার আবেদন নম্বরটি পেয়ে যাবেন।

জন্ম-নিবন্ধন-আবেদন-পত্র-ডাউনলোড

আপনার আবেদন নম্বরটি যেখানে রয়েছে, সেখান থেকে নম্বরটি সংগ্রহ করুন।

জন্ম নিবন্ধনের আবেদন নম্বরটি সংগ্রহ করার পর পুনরায় ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন। অর্থাৎ, https://bdris.gov.bd/ এই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করবেন। সেখানে আপনি কয়েকটি অপশন দেখতে পাবেন। উপরের দিকে লেখা থাকবেঃ

হোম
জন্ম নিবন্ধন
মৃত্যু নিবন্ধন 
ব্যবহারকারীর সংযোজন

আপনি যেহেতু জন্ম নিবন্ধনের আবেদনপত্রটি ডাউনলোড করতে চান, তাই “জন্ম নিবন্ধন” বাটনে ক্লিক করবেন।

জন্ম-নিবন্ধন-আবেদন-পত্র-ডাউনলোড

জন্ম নিবন্ধন বাটনে ক্লিক করার পর আপনার সামনে একটি পপ-আপ বক্স আসবে। সেখানে কয়েকটি অপশন দেখতে পাবেন। আপনি যেহেতু জন্ম নিবন্ধনের আবেদনপত্র প্রিন্ট করতে চান, তাই “জন্ম নিবন্ধন” আবেদন পত্র প্রিন্ট অপশন বা বাটনে ক্লিক করবেন।

জন্ম-নিবন্ধন-আবেদন-পত্র-ডাউনলোড

জন্ম নিবন্ধন আবেদনপত্র প্রিন্ট অপশনে ক্লিক করার পর আপনাকে একটি নতুন ট্যাবে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে নিচের ছবির মতো কয়েকটি বক্স দেখতে পাবেন, যেগুলোতে আপনাকে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করতে হবে।

বক্সগুলোতে যে তথ্যগুলো দিতে হবে, সেগুলো হলোঃ
প্রথম বক্সে আবেদনপত্রের ধরন নির্বাচন করবেন।
এরপরের বক্সে আপনার আবেদন নম্বরটি লিখবেন।
এরপরের বক্সে আবেদন করার সময় যে জন্মতারিখ দিয়েছিলেন, সেটি লিখবেন।
এরপরের বক্সে আবেদনের সময় যে ইংরেজি নামটি দিয়েছিলেন, সেটি লিখবেন।
তারপর যে মোবাইল নম্বর দিয়ে আবেদন করেছেন, সেটি লিখবেন।
আপনি যদি ইমেইল ঠিকানা দিয়ে থাকেন, তাহলে শেষের বক্সে ইমেইল ঠিকানাটি লিখবেন।
সর্বশেষে একটি ক্যাপচা দেখতে পাবেন। ক্যাপচাটি ভালোভাবে দেখে নির্দিষ্ট বক্সে সঠিকভাবে লিখবেন।

সব তথ্য পূরণ করা হয়ে গেলে “প্রিন্ট” অপশনে ক্লিক করবেন।

জন্ম-নিবন্ধন-আবেদন-পত্র-ডাউনলোড

প্রিন্ট অপশনে ক্লিক করার সঙ্গে সঙ্গে অথবা কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর আপনার জন্ম নিবন্ধনের আবেদনপত্রটি স্ক্রিনে চলে আসবে। এটিই আপনার মূল আবেদনপত্রের কপি। এখানে আবেদন করার সময় দেওয়া সব তথ্য দেখতে পাবেন। চাইলে তথ্যগুলো মিলিয়ে দেখে নিতে পারবেন এবং কোনো তথ্য ভুল থাকলে পরবর্তীতে সংশোধনের ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

আবেদনপত্রটি সাধারণত দুই পৃষ্ঠা বা দুই কপিতে দেখা যেতে পারে। এরপর আপনি এখান থেকে আপনার আবেদনপত্রটি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। এভাবেই অনলাইনে জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করার পর খুব সহজেই আবেদনপত্রের একটি পরিষ্কার কপি ডাউনলোড করতে পারবেন।

জন্ম নিবন্ধন আবেদন ফরম PDF কোথায় পাবেন

জন্ম নিবন্ধন আবেদন ফরম PDF সংগ্রহের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হলো সরকারি BDRIS পোর্টাল ব্যবহার করা। সাধারণত নতুন আবেদন অনলাইনে পূরণ করে সাবমিট করার পর আবেদনপত্র প্রিন্ট করার ব্যবস্থা থাকে। সেই আবেদনপত্র PDF হিসেবে সংরক্ষণ করে পরে কম্পিউটার থেকে প্রিন্ট করা যায়।

ফরম সংগ্রহের জন্য নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন।

https://bdris.gov.bd/ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
নতুন জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন অপশন নির্বাচন করুন।
জন্মস্থান বা স্থায়ী ঠিকানার ভিত্তিতে উপযুক্ত নিবন্ধন কার্যালয় নির্বাচন করুন।
আবেদনকারীর নাম, জন্মতারিখ, পিতা-মাতার তথ্য এবং ঠিকানা নির্ভুলভাবে পূরণ করুন।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যুক্ত করে সব তথ্য যাচাই করুন।
আবেদন সাবমিট করার পর আবেদন নম্বর বা Application ID সংরক্ষণ করুন।
পোর্টালের আবেদনপত্র প্রিন্ট অপশন ব্যবহার করে আবেদনপত্র খুলুন।
প্রিন্ট করার সময় PDF হিসেবে সংরক্ষণের সুবিধা থাকলে সেটি নির্বাচন করুন।

কম্পিউটারে PDF হিসেবে সংরক্ষণ করতে Print অপশনে গিয়ে Microsoft Print to PDF অথবা Save as PDF নির্বাচন করা যেতে পারে। ব্যবহৃত ব্রাউজার ও অপারেটিং সিস্টেম অনুযায়ী অপশনের নাম কিছুটা আলাদা হতে পারে। মনে রাখবেন, সরকারি পোর্টালের আবেদনপত্রই ব্যবহার করবেন। অপরিচিত ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া পুরোনো ফরম পূরণ করে জমা দিলে আবেদনপ্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে।

নতুন জন্ম নিবন্ধন করার নিয়ম

নতুন জন্ম নিবন্ধন করার জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হয় এবং প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রমাণপত্র সংশ্লিষ্ট নিবন্ধকের কাছে উপস্থাপন করতে হয়। শিশুর জন্মের পর যত দ্রুত সম্ভব জন্ম নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা ভালো। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন অনুযায়ী জন্মের তথ্য ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধকের কাছে দেওয়ার বিধান রয়েছে।

অনলাইনে আবেদন করার সাধারণ ধাপগুলো হলো।

সরকারি BDRIS পোর্টালে প্রবেশ করুন।
জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন অপশন নির্বাচন করুন।
জন্মস্থান, স্থায়ী ঠিকানা অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদন করার উপযুক্ত অপশন বেছে নিন।
নিবন্ধনাধীন ব্যক্তির নাম বাংলায় ও ইংরেজিতে লিখুন।
জন্মতারিখ, লিঙ্গ এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য পরিচিতির তথ্য দিন।
পিতা ও মাতার জন্ম নিবন্ধন নম্বর, নাম এবং প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করুন।
জন্মস্থানের ঠিকানা, স্থায়ী ঠিকানা এবং বর্তমান ঠিকানা পূরণ করুন।
পোর্টালে নির্দেশিত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করুন।
আবেদনকারীর সঙ্গে নিবন্ধনাধীন ব্যক্তির সম্পর্ক উল্লেখ করুন এবং চাওয়া তথ্য পূরণ করুন।
সব তথ্য ভালোভাবে যাচাই করে আবেদন সাবমিট করুন।
আবেদন নম্বর সংরক্ষণ করুন এবং আবেদনপত্র প্রিন্ট করুন।
প্রিন্ট করা আবেদনপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী জমা দিন।

আবেদন সাবমিট করার আগে নামের বানান, জন্মতারিখ, পিতা-মাতার নাম ও ঠিকানা একাধিকবার যাচাই করুন। সরকারি পোর্টালে সতর্ক করা হয়েছে যে আবেদন জমা হয়ে গেলে ফরমের তথ্য সরাসরি সম্পাদনা করার সুযোগ নাও থাকতে পারে।

জন্ম নিবন্ধন করতে কী কী লাগে

জন্ম নিবন্ধনের জন্য কী কী কাগজপত্র লাগবে, তা আবেদনকারীর বয়স, জন্মসংক্রান্ত প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কার্যালয়ের যাচাইয়ের ওপর নির্ভর করতে পারে। তাই নিচের তালিকাকে প্রস্তুতির সাধারণ নির্দেশনা হিসেবে ব্যবহার করুন। আপনার ক্ষেত্রে ঠিক কোন নথি গ্রহণযোগ্য, তা আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থেকে নিশ্চিত হওয়া ভালো।

জন্মের পর ৪৫ দিনের মধ্যে আবেদনঃ
শিশুর জন্মের পর যত দ্রুত সম্ভব আবেদন করার প্রস্তুতি নিন। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নিচের কাগজপত্র দরকার হতে পারে।

  1. হাসপাতাল বা ক্লিনিকের জন্মসংক্রান্ত ছাড়পত্র অথবা জন্মের প্রমাণ।
  2. শিশুর টিকা কার্ড বা প্রযোজ্য স্বাস্থ্যসংক্রান্ত নথি।
  3. পিতা-মাতার জন্ম নিবন্ধন সনদ।
  4. পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য বা কপি, যেখানে প্রযোজ্য।
  5. বাসার ঠিকানা বা বসবাসের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নথি।
  6. পোর্টাল বা নিবন্ধন কার্যালয় থেকে চাওয়া অন্যান্য কাগজপত্র।
৪৬ দিন থেকে ৫ বছর বয়স পর্যন্ত আবেদনঃ
এই বয়সের শিশুর ক্ষেত্রে জন্মের প্রমাণ এবং পিতা-মাতার পরিচয়সংক্রান্ত নথি গুরুত্বপূর্ণ। প্রস্তুত রাখতে পারেন:

  • EPI বা টিকা কার্ড।
  • হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্মসংক্রান্ত নথি, যদি থাকে।
  • পিতা-মাতার জন্ম নিবন্ধন সনদ।
  • পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, যেখানে প্রযোজ্য।
  • ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য কাগজপত্র।
  • সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কার্যালয় চাওয়া অন্যান্য প্রমাণ।
৫ বছরের বেশি বয়সীদের আবেদনঃ
বয়স বেশি হলে জন্মের তথ্য প্রমাণ করার জন্য অতিরিক্ত নথি প্রয়োজন হতে পারে। যেমন:
প্রাথমিক বা মাধ্যমিক শিক্ষাগত সনদ, যদি থাকে।

  • বিদ্যালয়ের প্রত্যয়নপত্র বা গ্রহণযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের রেকর্ড।
  • প্রযোজ্য ক্ষেত্রে চিকিৎসকের প্রত্যয়ন বা অন্যান্য গ্রহণযোগ্য জন্মসংক্রান্ত প্রমাণ।
  • পিতা-মাতার জন্ম নিবন্ধন সনদ ও পরিচয়সংক্রান্ত নথি।
  • ঠিকানা ও পরিচয় যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র।
  • সব আবেদনকারীর জন্য একই নথি বাধ্যতামূলক নয়। বিশেষ পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত প্রমাণ চাইতে পারে। তাই কোনো নথি না থাকলে নিজের মতো করে বিকল্প কাগজপত্র চূড়ান্ত না করে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধক কার্যালয়ে জেনে নিন।

কাগজপত্র প্রস্তুত করার আগে যা যাচাই করবেন

  1. সব নথিতে নামের বানান একই আছে কি না।
  2. জন্মতারিখের তথ্য একে অপরের সঙ্গে মেলে কি না।
  3. পিতা-মাতার জন্ম নিবন্ধন নম্বর সঠিক কি না।
  4. ঠিকানার তথ্য সঠিকভাবে লেখা হয়েছে কি না।
  5. স্ক্যান করা কাগজপত্র পরিষ্কার ও সম্পূর্ণ কি না।

সঠিক নথি আগে থেকে প্রস্তুত থাকলে অনলাইনে ফরম পূরণ এবং পরবর্তী যাচাইয়ের কাজ সহজ হয়।

জন্ম নিবন্ধন ফরম পূরণের নিয়ম

জন্ম নিবন্ধন ফরম পূরণের সময় প্রতিটি তথ্য নির্ভুলভাবে দেওয়া জরুরি। কারণ নাম, জন্মতারিখ, পিতা-মাতার পরিচয় এবং ঠিকানার তথ্য ভবিষ্যতে শিক্ষা, পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে প্রয়োজন হতে পারে। ফরম পূরণের সময় নিচের বিষয়গুলো অনুসরণ করুন।

নাম বাংলায় ও ইংরেজিতে লিখুনঃ
নামের বাংলা ও ইংরেজি বানান নির্ভরযোগ্য নথির সঙ্গে মিলিয়ে লিখুন। ইংরেজি নামের First Name ও Last Name-এর ঘর থাকলে পোর্টালের নির্দেশনা অনুযায়ী পূরণ করুন। নিজের ইচ্ছায় বানান পরিবর্তন বা অতিরিক্ত শব্দ যোগ করবেন না।

জন্মতারিখ সঠিকভাবে দিনঃ
জন্মতারিখ দেওয়ার সময় গ্রহণযোগ্য জন্মসংক্রান্ত নথির সঙ্গে মিলিয়ে নিন। দিন, মাস ও বছর উল্টে যাওয়া বা ভুল সাল লেখার কারণে ভবিষ্যতে সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।
পিতা-মাতার তথ্য যাচাই করুনঃ
পিতা-মাতার নাম, জন্ম নিবন্ধন নম্বর এবং প্রয়োজনীয় পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য সঠিকভাবে দিন। তাঁদের জন্ম নিবন্ধন নম্বর থাকলে সেটি দেওয়ার সময় নম্বরের প্রতিটি ডিজিট পরীক্ষা করুন।

ঠিকানা নির্ভুলভাবে পূরণ করুনঃ
জন্মস্থানের ঠিকানা, স্থায়ী ঠিকানা এবং বর্তমান ঠিকানা আলাদা করে চাওয়া হলে প্রতিটি ঘরে যথাযথ তথ্য দিন। একই ঠিকানা হলে পোর্টালের সংশ্লিষ্ট অপশন ব্যবহার করুন।

সাবমিটের আগে সম্পূর্ণ ফরম যাচাই করুনঃ
আবেদন সাবমিট করার আগে সব তথ্য পুনরায় পড়ুন। বিশেষভাবে নাম, জন্মতারিখ, পিতা-মাতার তথ্য এবং ঠিকানার বানান যাচাই করুন। আবেদন জমা হয়ে গেলে সরাসরি সম্পাদনার সুযোগ সীমিত হতে পারে, তাই শুরুতেই নির্ভুল তথ্য দেওয়া সবচেয়ে ভালো।

জন্ম নিবন্ধন আবেদন ফরমে ডকুমেন্ট আপলোড করার নিয়ম

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করার সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ডিজিটাল ফাইল হিসেবে যুক্ত করতে হতে পারে। এ জন্য কাগজপত্র স্ক্যান করে বা পরিষ্কার ছবি তুলে কম্পিউটার অথবা মোবাইলে সংরক্ষণ করুন।

সরকারি BDRIS আবেদন পেজে বর্তমানে সংযুক্তির ক্ষেত্রে JPG, JPEG এবং PNG ইমেজ ফরম্যাটের উল্লেখ রয়েছে। সেখানে প্রতিটি ফাইলের সর্বোচ্চ আকার ২ MB দেখানো হয়েছে। তাই সব সময় ১০০ KB-এর মধ্যে ফাইল রাখতেই হবে—এমন ধারণা সঠিক নয়। আবেদন করার সময় পোর্টালে প্রদর্শিত সর্বশেষ সীমা অনুসরণ করুন।

  1. ফাইল আপলোড করার ধাপগুলো হলো:
  2. কাগজপত্রের পরিষ্কার স্ক্যান বা ছবি তৈরি করুন।
  3.  ফাইলটি JPG, JPEG অথবা পোর্টালে গ্রহণযোগ্য ফরম্যাটে সংরক্ষণ করুন।
  4.  ফাইলের নাম এমনভাবে রাখুন, যাতে কোনটি কোন নথি তা সহজে বোঝা যায়।
  5.  আবেদন ফরমের সংযুক্তি অংশে যান।
  6. পোর্টালে যে নথির ধরন নির্বাচন করতে বলা হয়েছে, সেটি বেছে নিন।
  7. Choose File বা সংশ্লিষ্ট অপশন থেকে সঠিক ফাইল নির্বাচন করুন।
  8. সংযোজন বা Upload বাটনে ক্লিক করুন।
  9. ফাইলটি যুক্ত হয়েছে কি না যাচাই করুন।
  10. অন্য নথিগুলোও একইভাবে একে একে যুক্ত করুন।
  11. সব সংযুক্তি ঠিক থাকলে পরবর্তী ধাপে যান।

জন্ম-নিবন্ধন-আবেদন-পত্র-ডাউনলোড

ছবি অস্পষ্ট হলে, নথির কিছু অংশ কাটা পড়লে বা ভুল ফাইল যুক্ত হলে আবেদন যাচাইয়ে সমস্যা হতে পারে। তাই আপলোডের পর সম্ভব হলে ফাইলটি খুলে দেখে নিন।

জন্ম নিবন্ধন আবেদন ফি ২০২৬

জন্ম নিবন্ধনের সরকারি ফি আবেদনকারীর বয়স এবং সেবার ধরনের ওপর নির্ভর করে। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী প্রচলিত ফি-তালিকায় জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধনের জন্য ফি নেই। নির্ধারিত সময়ের পরে আবেদন, তথ্য সংশোধন এবং সনদের নকল সংগ্রহের ক্ষেত্রে ফি প্রযোজ্য হতে পারে।

নিচে প্রচলিত সরকারি ফি-তালিকা দেওয়া হলোঃ

সেবার ধরন ফি
জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধন বিনামূল্যে
জন্মের ৪৫ দিন পর থেকে ৫ বছর পর্যন্ত নিবন্ধন ২৫ টাকা
৫ বছরের বেশি বয়সে নিবন্ধন ৫০ টাকা
জন্মতারিখ সংশোধন ১০০ টাকা
নাম, পিতা-মাতার নাম, ঠিকানা বা অন্যান্য তথ্য সংশোধন ৫০ টাকা
বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় সনদের নকল সরবরাহ ৫০ টাকা

এই তালিকা সাধারণ নির্দেশনার জন্য। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কার্যালয় বা সরকারি পোর্টাল থেকে প্রযোজ্য ফি নিশ্চিত করুন। বিশেষ পরিস্থিতি বা নিয়মের পরিবর্তনের কারণে প্রযোজ্য অর্থ ভিন্ন হতে পারে।

অতিরিক্ত টাকা দেওয়া থেকে সতর্ক থাকুন

জন্ম নিবন্ধনের ফি জমা দেওয়ার সময় সরকারি নির্ধারিত অর্থ এবং প্রযোজ্য হলে অনুমোদিত অন্যান্য চার্জ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখুন। টাকা জমা দিলে রসিদ সংগ্রহ করুন। কোনো ব্যক্তি অতিরিক্ত অর্থ দাবি করলে তার কারণ ও সরকারি ভিত্তি জানতে চান।

সংশোধনের ফি সব ক্ষেত্রে এক নয়। জন্মতারিখ সংশোধনের ফি এবং অন্যান্য তথ্য সংশোধনের ফি আলাদা হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশোধনের ধরন অনুযায়ী সঠিক ফি যাচাই করা জরুরি।

জন্ম নিবন্ধনের আবেদন কোথায় জমা দেবেনঃ

অনলাইনে আবেদন করার পর আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কোন অফিসে জমা দিতে হবে, তা আবেদনকারীর জন্মস্থান বা স্থায়ী ঠিকানা এবং নির্বাচিত নিবন্ধন কার্যালয়ের ওপর নির্ভর করে।

উনিয়ন পরিষদ এলাকার বাসিন্দাঃ

ইউনিয়ন পরিষদ এলাকার জন্য আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের নিবন্ধন কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করুন। অনলাইন আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কপি এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মূল নথি সঙ্গে রাখুন। জমা দেওয়ার সময় আবেদন নম্বর সংরক্ষণ করুন।

পৌরসভা এলাকার বাসিন্দাঃ

পৌরসভা এলাকার আবেদনকারীরা সংশ্লিষ্ট পৌরসভার জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন শাখা বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। কোন কাগজের মূল কপি দেখাতে হবে এবং কোনটি জমা দিতে হবে, তা আগে জেনে নিন।

সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাসিন্দাঃ

সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাসিন্দাদের সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক কার্যালয় বা নির্ধারিত নিবন্ধন কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদন জমা দিতে হবে। অনলাইনে যে কার্যালয় নির্বাচন করা হয়েছে, সেটি সঠিক কি না যাচাই করুন।

সব ক্ষেত্রে আবেদনপত্র সরাসরি ইউএনও কার্যালয়ে জমা দিতে হবে—এমন সাধারণ নিয়ম ধরে নেওয়া উচিত নয়। আবেদন জমা দেওয়ার স্থান নিশ্চিত করতে BDRIS পোর্টালে নির্বাচিত কার্যালয়ের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট নিবন্ধকের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

জন্ম নিবন্ধন আবেদন স্ট্যাটাস চেক করার নিয়ম

অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার পর সেটির বর্তমান অবস্থা জানতে সরকারি পোর্টালের আবেদন-সংক্রান্ত সেবা ব্যবহার করুন। আবেদন অনুমোদিত হয়েছে কি না, যাচাই চলছে কি না বা আরও কাগজপত্র প্রয়োজন কি না, তা জানতে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগও করতে হতে পারে।

স্ট্যাটাস চেক করার সাধারণ পদ্ধতি:

  1. https://bdris.gov.bd/ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
  2. জন্ম নিবন্ধন আবেদনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কিত অপশন খুঁজুন।
  3. পোর্টালে যে আবেদন নম্বর বা পরিচিতির তথ্য চাওয়া হবে, তা দিন।
  4. নির্দেশিত যাচাইকরণ সম্পন্ন করুন।
  5. প্রদর্শিত তথ্য দেখে আবেদনটির অবস্থা বুঝে নিন।
  6. কোনো সমস্যা বা অতিরিক্ত নথির নির্দেশনা থাকলে তা অনুসরণ করুন।

আবেদনের নম্বর হারিয়ে গেলে আগে সংরক্ষিত SMS, কাগজের কপি বা আবেদনপত্র খুঁজে দেখুন। এরপরও নম্বর না পেলে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কার্যালয়ে যোগাযোগ করুন। অনুমোদন পাওয়ার আগে সনদ তৈরি হয়েছে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

জন্ম নিবন্ধন আবেদন সংশোধন করার নিয়ম

জন্ম নিবন্ধনের সনদে নাম, জন্মতারিখ, পিতা-মাতার নাম বা ঠিকানায় ভুল থাকলে সংশোধনের আবেদন করতে হতে পারে। সংশোধনের জন্য কেবল সঠিক তথ্য লিখলেই হবে না; প্রয়োজন অনুযায়ী সেই তথ্যের পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্রও দিতে হবে।

সরকারি সংশোধন পেজঃ

https://bdris.gov.bd/br/correction সাধারণভাবে সংশোধনের ধাপগুলো হলো: সংশোধনের জন্য অফিসিয়াল পেজে প্রবেশ করুন। জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও জন্মতারিখ দিয়ে রেকর্ড খুঁজুন।পোর্টালে প্রদর্শিত তথ্য মিলিয়ে সঠিক রেকর্ড নির্বাচন করুন।যে তথ্য সংশোধন করতে চান, সেটি নির্বাচন করুন।চাহিত সংশোধিত তথ্য নির্ভুলভাবে লিখুন।সংশোধনের কারণ নির্বাচন বা উল্লেখ করুন।সংশোধনের পক্ষে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র আপলোড করুন।আবেদনকারীর তথ্য এবং যোগাযোগের তথ্য পূরণ করুন।সব তথ্য যাচাই করে আবেদন জমা দিন।আবেদনপত্র সংরক্ষণ করুন এবং পোর্টাল বা নিবন্ধন কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

পিতা-মাতার নাম সংশোধনের ক্ষেত্রে সতর্কতাঃ

পিতা-মাতার জন্ম নিবন্ধন নম্বর থাকলে তাঁদের তথ্যের সংশোধন আগে প্রয়োজন হতে পারে। সরকারি সংশোধন পোর্টালে পিতা-মাতার তথ্য সংশোধন ও সংশ্লিষ্ট জন্ম নিবন্ধনের রেকর্ডের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া আছে। তাই নিজের সনদে পিতা-মাতার নাম ভুল থাকলে সংশোধনের আগে পোর্টালের নির্দিষ্ট নির্দেশনা পড়ুন।

সংশোধনের জন্য কী প্রমাণ লাগতে পারেঃ

সংশোধনের ধরন অনুযায়ী শিক্ষাগত সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র, পিতা-মাতার নথি, ঠিকানার প্রমাণ বা অন্য গ্রহণযোগ্য দলিল লাগতে পারে। সব সংশোধনের জন্য একই কাগজপত্র প্রযোজ্য নয়। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধক কার্যালয় থেকে প্রমাণপত্রের তালিকা নিশ্চিত করুন।

একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সরকারি পোর্টালে সংশোধনের আবেদনের সংখ্যা সীমিত থাকতে পারে। তাই প্রতিবার আলাদা করে আবেদন না করে প্রথমবারেই ভুলগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংশোধন একসঙ্গে করার চেষ্টা করুন।

জন্ম নিবন্ধন ফাইল আপলোড সমস্যা সমাধান

জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করার সময় ফাইল আপলোড না হলে প্রথমে পোর্টালে প্রদর্শিত ত্রুটির বার্তা পড়ুন। File Size Exceeds, Unsupported Format অথবা Upload Failed—প্রতিটি সমস্যার কারণ আলাদা হতে পারে।

ফাইলের সাইজ বেশি হলেঃ

ফাইলের আকার কমানোর জন্য বিশ্বস্ত ইমেজ রিসাইজার বা ছবি সম্পাদনার সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারেন। তবে ফাইলের সাইজ কমাতে গিয়ে লেখা যেন অস্পষ্ট না হয়, সেটি নিশ্চিত করুন। সরকারি আবেদন পেজে বর্তমানে সর্বোচ্চ ২ MB এবং JPG, JPEG বা PNG ফরম্যাটের নির্দেশনা দেখা যাচ্ছে। আবেদন করার সময় পোর্টালে দেখানো সীমাই অনুসরণ করবেন।

ফাইলের ফরম্যাট গ্রহণ না করলেঃ

PDF ফাইল আপলোড করতে না পারলে পোর্টালে অনুমোদিত ইমেজ ফরম্যাটে ফাইল তৈরি করুন। কাগজপত্র স্ক্যান করার সময় ছবি যেন সোজা থাকে, চারপাশ কাটা না পড়ে এবং সব লেখা স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

সঠিক ফাইল নির্বাচন না হলেঃ

কম্পিউটার বা মোবাইলে একাধিক নথি থাকলে ভুল ফাইল নির্বাচন হয়ে যেতে পারে। তাই আপলোডের আগে ফাইলের নাম ও বিষয়বস্তু মিলিয়ে নিন। ফাইল যুক্ত হওয়ার পর সেটি পোর্টালে তালিকাভুক্ত হয়েছে কি না পরীক্ষা করুন। তবুও আপলোড না হলেঃ ইন্টারনেট সংযোগ পরীক্ষা করুন। পেজে কোনো বাধ্যতামূলক ঘর অসম্পূর্ণ আছে কি না দেখুন। অন্য একটি হালনাগাদ ব্রাউজার ব্যবহার করে চেষ্টা করুন।

কিছু সময় অপেক্ষা করে আবার চেষ্টা করুন। সমস্যা স্থায়ী হলে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কার্যালয়ের সহায়তা নিন। কোনো অবস্থাতেই ভুল বা সম্পাদিত প্রমাণপত্র আপলোড করবেন না। তথ্যের সত্যতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জন্ম নিবন্ধন সার্ভার সমস্যা ও সমাধান

সরকারি জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন পোর্টাল কখনো ধীরগতিতে চলতে পারে বা সাময়িকভাবে খোলা নাও যেতে পারে। সার্ভারের রক্ষণাবেক্ষণ, অতিরিক্ত ব্যবহারকারী, ইন্টারনেট সংযোগ কিংবা ব্রাউজারের সমস্যার কারণে এমন পরিস্থিতি হতে পারে। সমস্যা দেখা দিলে প্রথমে নিজের ইন্টারনেট সংযোগ ঠিক আছে কি না পরীক্ষা করুন। অন্য সরকারি ওয়েবসাইট খুলছে কি না দেখুন। শুধু BDRIS পোর্টাল কাজ না করলে কিছু সময় অপেক্ষা করে আবার চেষ্টা করুন।

ব্রাউজারে পুরোনো Cache বা Cookies জমে থাকলে পেজ লোডে সমস্যা হতে পারে। প্রয়োজনে ব্রাউজারের Cache পরিষ্কার করে বা Incognito Window ব্যবহার করে চেষ্টা করতে পারেন। তবে ব্যক্তিগত তথ্য প্রবেশের সময় নিরাপদ ডিভাইস ও বিশ্বস্ত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করুন। সার্ভার ব্যস্ত থাকলে বারবার Submit বাটনে ক্লিক করবেন না।

এতে একই কাজ একাধিকবার করার চেষ্টা হতে পারে বা আপনি আবেদন জমা হয়েছে কি না বুঝতে অসুবিধায় পড়তে পারেন। আগে আবেদন নম্বর বা সফলতার বার্তা এসেছে কি না যাচাই করুন। সকাল বা রাতের নির্দিষ্ট কোনো সময়ে সার্ভার অবশ্যই ভালো চলবে এমন নিশ্চয়তা নেই। সরকারি পোর্টাল কাজ না করলে কিছু সময় অপেক্ষা করা এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কার্যালয়ে যোগাযোগ করাই যুক্তিসংগত উপায়।

জন্ম নিবন্ধন আবেদন করার সময় যেসব ভুল এড়াবেন

জন্ম নিবন্ধনের আবেদন সহজে সম্পন্ন করতে কিছু সাধারণ ভুল এড়িয়ে চলা জরুরি। নামের বাংলা ও ইংরেজি বানান যাচাই না করে আবেদন সাবমিট করবেন না। জন্মতারিখ অনুমান করে লিখবেন না।পিতা-মাতার জন্ম নিবন্ধন নম্বর ভুল দেবেন না। জন্মস্থান, স্থায়ী ঠিকানা ও বর্তমান ঠিকানা গুলিয়ে ফেলবেন না। অস্পষ্ট বা কাটা ছবি আপলোড করবেন না। আবেদন নম্বর সংরক্ষণ না করে পেজ বন্ধ করবেন না। একই আবেদন বারবার জমা দেওয়ার আগে আগের আবেদনটি হয়েছে কি না যাচাই করুন।

সরকারি ফি সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে কাউকে অতিরিক্ত টাকা দেবেন না। আবেদন অনুমোদনের আগে সনদ হাতে পাওয়া যাবে ধরে নেবেন না। সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রমাণপত্র ছাড়া শুধু নিজের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করবেন না। সবচেয়ে ভালো উপায় হলো আবেদন শুরু করার আগেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে রাখা এবং ফরম সাবমিট করার আগে প্রতিটি তথ্য মনোযোগ দিয়ে যাচাই করা।

উপসংহার: জন্ম নিবন্ধন আবেদন পত্র ডাউনলোড

জন্ম নিবন্ধন আবেদন পত্র ডাউনলোড, নতুন জন্ম নিবন্ধনের আবেদন এবং আবেদনপত্র প্রিন্ট করার জন্য সরকারি BDRIS পোর্টাল ব্যবহার করা উচিত। নতুন আবেদন করতে হলে সঠিক নিবন্ধন কার্যালয় নির্বাচন, নাম ও জন্মতারিখ নির্ভুলভাবে লেখা, পিতা-মাতার তথ্য পূরণ এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র সংযুক্ত করা জরুরি। আবেদন সাবমিট করার পর আবেদন নম্বর সংরক্ষণ করুন এবং পোর্টালের নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদনপত্র প্রিন্ট করে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কার্যালয়ে জমা দিন।

জন্ম নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বয়স ও পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। একইভাবে নতুন নিবন্ধন, জন্মতারিখ সংশোধন, নাম সংশোধন এবং সনদের নকল সংগ্রহের সরকারি ফিও এক নয়। তাই আবেদন করার আগে বর্তমান সরকারি নির্দেশনা যাচাই করুন এবং ফি জমা দিলে রসিদ সংগ্রহ করুন। ফাইল আপলোডের ক্ষেত্রে পোর্টালে প্রদর্শিত ফরম্যাট ও সাইজের সীমা অনুসরণ করুন। বর্তমানে সরকারি আবেদন পেজে JPG, JPEG ও PNG ইমেজ ফরম্যাট এবং সর্বোচ্চ ২ MB ফাইলের নির্দেশনা দেখা যাচ্ছে।

সবশেষে, জন্ম নিবন্ধন আবেদন করার সময় তাড়াহুড়ো না করে প্রতিটি তথ্য যাচাই করুন। আবেদনপত্র প্রিন্ট না হলে সরকারি প্রিন্ট পেজ ব্যবহার করুন, স্ট্যাটাস জানতে আবেদনসংক্রান্ত সেবা দেখুন এবং ভুল তথ্য সংশোধনের জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করুন। সার্ভার বা আপলোড সমস্যায় বারবার আবেদন জমা না দিয়ে কিছু সময় অপেক্ষা করুন অথবা সংশ্লিষ্ট নিবন্ধক কার্যালয়ের সহায়তা নিন। এতে ভুল কমবে এবং জন্ম নিবন্ধনের কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করার সুযোগ বাড়বে।

গুরুত্বপূর্ণ সরকারি লিংক

BDRIS অফিসিয়াল ওয়েবসাইট: https://bdris.gov.bd/

নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন: https://bdris.gov.bd/br/application

জন্ম নিবন্ধন তথ্য সংশোধন: https://bdris.gov.bd/br/correction

আবেদনপত্র প্রিন্ট: https://bdris.gov.bd/application/print

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিধিমালা, ২০১৮: https://orgbdr.gov.bd/

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

টপিকহাব ডিজিটালের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

Md. Moynul Hassen
Md. Moynul Hassen
ডিজিটাল মার্কেটিং, এসইও (SEO) এবং প্রযুক্তি নিয়ে আগ্রহ নিয়ে কাজ শিখছি। নতুন বিষয় শেখার পাশাপাশি নিয়মিত ডিজিটাল মার্কেটিং, ব্লগিং ও অনলাইন ইনকাম সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে ব্লগ পোস্ট ও আর্টিকেলের মাধ্যমে অভিজ্ঞতা শেয়ার করি।